রাহাতের কথা খুব মনে পড়ছে..
রাহাত কে.?
ও ছিলো আমার কলেজের বন্ধু..একসাথে পড়তাম কিন্তু তেমন একটা পরিচয় ছিলো না...
ওর সাথে আমার পরিচয় হয় ভালো ভাবে এডমিশন টেস্ট এর সময়....
ও খুবই ফুর্তিবাজ একটা ছেলে..
সেই সাথে আবেগ প্রবণ ও!
২জনে মিলে একটা বাসা ভাড়া নিয়েছিলাম. ..
আহা...
কতই না মধুর ছিলো সময় গুলো..!
কতো হাসি কতো দুঃখ ২জনে শেয়ার করতাম ..
ঘুরাঘুরিও করতাম..
কিন্তু আমি যতটা পড়তাম,,
ও কিন্তু একটুও পড়তো না..
শুধু ফুর্তি করে বেড়াতো ...
প্রথম দিকে ওকে একটুও দেখতে পারতাম না আমি..
খুবই বিরক্ত লাগতো. ..
আর ওর চলাফেরা তে আমি অভ্যস্ত ছিলাম না,,
হয়তো বা তাই...!
কিন্তু আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম...
ওর ভেতরে কোমল একটা মন আছে..
সেই মনে অফুরন্ত আনন্দ ।
থাকতাম ২রুম এর একটা বাসায় ৩য় তলাতে...
আস্তে আস্তে ভাব হয়ে গেলো আমাদের..!
ওর জীবনের অনেক গল্প আমার সাথে করতে লাগলো...
আমিও টুক টাক বলতাম...
কিন্তু আমার গল্প গুলা ছিলো নিরামিষ টাইপের আর ওর গুলায় আমিষ এর কোনো কমতি ছিল না...!!
আমি গল্প শুনে যতটা না মজা পেতাম,,
ও আমাকে গল্প বলে তার চাইতে কয়েক গুন বেশি মজা পেতো...!
কতো রাত এভাবে পার হয়েছে গল্প করে..!
হিসেব নেই..!
পড়া লেখা তেমন হতো না আমাদের..!
তবুও আমি পড়তাম..
প্রচুর পড়তাম ..!
কারণ অনেক প্রেশার এ ছিলাম...
আমার জীবনে তখন অনেক কিছু প্যারালাল ভাবে ঘটে চলছিল..
যেটার ধাক্কা গুলো সামলাতে সামলাতে আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম...
থাক,সেই গল্প না হয় আরেক দিন বলবো..|
আজকে শুধু রাহাত কে নিয়েই বলি...
তো যেটা বলছিলাম,পড়ালেখা করতাম..
রাহাত পড়তো খুবই কম..ওর বাবা অসুস্থ ছিলো ....বেচারা..!
ও করতো কি..
বাবার কাছ থেকে হাবি যাবি বলে টাকা নিতো..
নেয়ার পরে উড়াত টাকা..
খাওয়া দাওয়া..ঘুরা ঘুরি,,
এসব করতো..!
আমি অনেক বুঝাতাম..কিন্তু কে শোনে কার কথা..!
আর এখানে আমি খুব কম টাকা খরচ করতাম..
তাই আমাকে কিপটা ,,
হাবি যাবি,,এসব অনেক কিছু বলে ক্ষেপাতো..!
ও কতো টা ভালো মানুষ,,
একবার বুঝতে পারলাম..যখন একরোগী কে রক্ত দিলো..
তার জন্য কত কি ই না করলো..!
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম..!
মুগ্ধ হলাম...!
আমি খুব ভীতু টাইপের ছিলাম..
একবার রাহাতের কোনো এক ফ্রেন্ড এর রিলেটিভ কে রক্ত দেয়ার প্রয়োজন পড়লো...
যেটার গ্রুপ আমার সাথে মিল..!
কিন্তু আমি রক্ত দিতে চাই না..ভয় পাই...
ও আমাকে জোর করে নিয়ে গেলো ...!
আমি রক্ত দিলাম..তখন প্রায় মধ্যরাত. .! রক্ত দিয়ে উঠার সময় মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম..!
ঠিক হতে টাইম লাগলো অনেক ..! বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১টার বেশি বাজলো..! আমি ডিম সেদ্ধ করে খেলাম..তেমন কিছু ছিলো না খাওয়ার..! শরীর খুব ক্লান্ত লাগছিলো.. আমরা প্রায়ই এমন অনেক রোগী কে সাহায্যে করেছি...দেখতে গিয়েছি..কারণ রাহাতের ড্রিম ছিলো ও ডাক্তার হবে..! তাই আগে ভাগেই জন সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলো ও..! ভালোই লাগতো আমার ওকে ...আহা..! কীসব দিন ছিলো..! সেইসব কথা কি এতো সহজে ভুলা যায়..! ভুলবো আমি..! মনে থাকবে অনন্তকাল..! এই তো সেইদিনের কথা..! খুব তো বেশি দিন হয় নি. এখন ২০১৮ চলছে,,তখন ছিলো ২০১৬। রাহাত কে নিয়ে অনেক গল্প আছে যেগুলা বলতে বলতে শেষ হবে না..! ও এখন ঢাকার কোনো একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে পড়ে..! না,,ওর ডাক্তার হওয়ার শখ পূরণ হয় নি..! কিন্তু তাতে ওর কোনো রকম আক্ষেপ আছে বলে আমার মনে হয় না..! ডাক্তার না হয়েও তো মানুষ এর সেবা করা যায়..! ও যতটা ইমোশনাল,,ঠিক ততটাই শক্ত একটা ছেলে..। এডমিশন টেস্ট এর আগেই ওর বাবা মারা যান । অনেক দিন যাবত ই অসুস্থ ছিলেন. .হাসপাতালেও ভর্তি ছিলো.. ! উনার ক্যান্সার ধরা পড়েছিলো ,,একদম লাস্ট স্টেজ.. যেখানে করার আর কিছুই থাকে না। বাবা মারা যাওয়ার নিউজ শোনার পরেও রাহাত কে তেমন বিচলিত হতে দেখিনি আমি..। ও ঠান্ডা মাথায় সব হ্যান্ডেল করলো ..! একটুও কাদলো না..! কিংবা হয়তো কেদেছে, আমি জানি না..! এতো কিছুর পরেও ও সুন্দর করে আডমিশন টেস্ট দিলো . .বাংলাদেশ এর অনেক জায়গায় ই ঘুরল, ,টেস্ট দিলো. .এডমিশন টেস্ট এর পরে থেকে আর দেখা হয়নি ওর সাথে . নাহ,ভুল বললাম,,এর পরেও একবার দেখা হয়েছিল রাস্তায়. ..ও হঠাৎ করে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো.. আমি অবাক হয়ে গেলাম ..! কেমন যেনো একটু অপরিচিত লাগছিলো ওকে. .! *সময় মানুষ কে অপরিচিত করে দেয় . ! অবাক করা ব্যাপার। আমরা এতো ক্লোজ হয়েছিলাম,তবুও আমাদের সম্পর্ক টা তুই তুই এ গড়ায় নি . ...থেকে গেছে তুমি তে..! ও কি জানে ওকে কতটা মিস করছি এখন আমি..??? জানে না...
পৃথিবী তে অনেকেই অনেক কিছু জানে না,,কিন্তু তাদের আড়ালে ঠিকই কতো কিছুই না ঘটে চলে তাদের জন্য. !
সে খবর কি কেউ রাখে..!!!
রাহাত কে.?
ও ছিলো আমার কলেজের বন্ধু..একসাথে পড়তাম কিন্তু তেমন একটা পরিচয় ছিলো না...
ওর সাথে আমার পরিচয় হয় ভালো ভাবে এডমিশন টেস্ট এর সময়....
ও খুবই ফুর্তিবাজ একটা ছেলে..
সেই সাথে আবেগ প্রবণ ও!
২জনে মিলে একটা বাসা ভাড়া নিয়েছিলাম. ..
আহা...
কতই না মধুর ছিলো সময় গুলো..!
কতো হাসি কতো দুঃখ ২জনে শেয়ার করতাম ..
ঘুরাঘুরিও করতাম..
কিন্তু আমি যতটা পড়তাম,,
ও কিন্তু একটুও পড়তো না..
শুধু ফুর্তি করে বেড়াতো ...
প্রথম দিকে ওকে একটুও দেখতে পারতাম না আমি..
খুবই বিরক্ত লাগতো. ..
আর ওর চলাফেরা তে আমি অভ্যস্ত ছিলাম না,,
হয়তো বা তাই...!
কিন্তু আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম...
ওর ভেতরে কোমল একটা মন আছে..
সেই মনে অফুরন্ত আনন্দ ।
থাকতাম ২রুম এর একটা বাসায় ৩য় তলাতে...
আস্তে আস্তে ভাব হয়ে গেলো আমাদের..!
ওর জীবনের অনেক গল্প আমার সাথে করতে লাগলো...
আমিও টুক টাক বলতাম...
কিন্তু আমার গল্প গুলা ছিলো নিরামিষ টাইপের আর ওর গুলায় আমিষ এর কোনো কমতি ছিল না...!!
আমি গল্প শুনে যতটা না মজা পেতাম,,
ও আমাকে গল্প বলে তার চাইতে কয়েক গুন বেশি মজা পেতো...!
কতো রাত এভাবে পার হয়েছে গল্প করে..!
হিসেব নেই..!
পড়া লেখা তেমন হতো না আমাদের..!
তবুও আমি পড়তাম..
প্রচুর পড়তাম ..!
কারণ অনেক প্রেশার এ ছিলাম...
আমার জীবনে তখন অনেক কিছু প্যারালাল ভাবে ঘটে চলছিল..
যেটার ধাক্কা গুলো সামলাতে সামলাতে আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম...
থাক,সেই গল্প না হয় আরেক দিন বলবো..|
আজকে শুধু রাহাত কে নিয়েই বলি...
তো যেটা বলছিলাম,পড়ালেখা করতাম..
রাহাত পড়তো খুবই কম..ওর বাবা অসুস্থ ছিলো ....বেচারা..!
ও করতো কি..
বাবার কাছ থেকে হাবি যাবি বলে টাকা নিতো..
নেয়ার পরে উড়াত টাকা..
খাওয়া দাওয়া..ঘুরা ঘুরি,,
এসব করতো..!
আমি অনেক বুঝাতাম..কিন্তু কে শোনে কার কথা..!
আর এখানে আমি খুব কম টাকা খরচ করতাম..
তাই আমাকে কিপটা ,,
হাবি যাবি,,এসব অনেক কিছু বলে ক্ষেপাতো..!
ও কতো টা ভালো মানুষ,,
একবার বুঝতে পারলাম..যখন একরোগী কে রক্ত দিলো..
তার জন্য কত কি ই না করলো..!
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম..!
মুগ্ধ হলাম...!
আমি খুব ভীতু টাইপের ছিলাম..
একবার রাহাতের কোনো এক ফ্রেন্ড এর রিলেটিভ কে রক্ত দেয়ার প্রয়োজন পড়লো...
যেটার গ্রুপ আমার সাথে মিল..!
কিন্তু আমি রক্ত দিতে চাই না..ভয় পাই...
ও আমাকে জোর করে নিয়ে গেলো ...!
আমি রক্ত দিলাম..তখন প্রায় মধ্যরাত. .! রক্ত দিয়ে উঠার সময় মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম..!
ঠিক হতে টাইম লাগলো অনেক ..! বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১টার বেশি বাজলো..! আমি ডিম সেদ্ধ করে খেলাম..তেমন কিছু ছিলো না খাওয়ার..! শরীর খুব ক্লান্ত লাগছিলো.. আমরা প্রায়ই এমন অনেক রোগী কে সাহায্যে করেছি...দেখতে গিয়েছি..কারণ রাহাতের ড্রিম ছিলো ও ডাক্তার হবে..! তাই আগে ভাগেই জন সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলো ও..! ভালোই লাগতো আমার ওকে ...আহা..! কীসব দিন ছিলো..! সেইসব কথা কি এতো সহজে ভুলা যায়..! ভুলবো আমি..! মনে থাকবে অনন্তকাল..! এই তো সেইদিনের কথা..! খুব তো বেশি দিন হয় নি. এখন ২০১৮ চলছে,,তখন ছিলো ২০১৬। রাহাত কে নিয়ে অনেক গল্প আছে যেগুলা বলতে বলতে শেষ হবে না..! ও এখন ঢাকার কোনো একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে পড়ে..! না,,ওর ডাক্তার হওয়ার শখ পূরণ হয় নি..! কিন্তু তাতে ওর কোনো রকম আক্ষেপ আছে বলে আমার মনে হয় না..! ডাক্তার না হয়েও তো মানুষ এর সেবা করা যায়..! ও যতটা ইমোশনাল,,ঠিক ততটাই শক্ত একটা ছেলে..। এডমিশন টেস্ট এর আগেই ওর বাবা মারা যান । অনেক দিন যাবত ই অসুস্থ ছিলেন. .হাসপাতালেও ভর্তি ছিলো.. ! উনার ক্যান্সার ধরা পড়েছিলো ,,একদম লাস্ট স্টেজ.. যেখানে করার আর কিছুই থাকে না। বাবা মারা যাওয়ার নিউজ শোনার পরেও রাহাত কে তেমন বিচলিত হতে দেখিনি আমি..। ও ঠান্ডা মাথায় সব হ্যান্ডেল করলো ..! একটুও কাদলো না..! কিংবা হয়তো কেদেছে, আমি জানি না..! এতো কিছুর পরেও ও সুন্দর করে আডমিশন টেস্ট দিলো . .বাংলাদেশ এর অনেক জায়গায় ই ঘুরল, ,টেস্ট দিলো. .এডমিশন টেস্ট এর পরে থেকে আর দেখা হয়নি ওর সাথে . নাহ,ভুল বললাম,,এর পরেও একবার দেখা হয়েছিল রাস্তায়. ..ও হঠাৎ করে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো.. আমি অবাক হয়ে গেলাম ..! কেমন যেনো একটু অপরিচিত লাগছিলো ওকে. .! *সময় মানুষ কে অপরিচিত করে দেয় . ! অবাক করা ব্যাপার। আমরা এতো ক্লোজ হয়েছিলাম,তবুও আমাদের সম্পর্ক টা তুই তুই এ গড়ায় নি . ...থেকে গেছে তুমি তে..! ও কি জানে ওকে কতটা মিস করছি এখন আমি..??? জানে না...
পৃথিবী তে অনেকেই অনেক কিছু জানে না,,কিন্তু তাদের আড়ালে ঠিকই কতো কিছুই না ঘটে চলে তাদের জন্য. !
সে খবর কি কেউ রাখে..!!!