আজকে ০৬-০৫-২০২১
বহুদিন পর লিখতে বসলাম ।
লিখতে বসি বসি করে বসাও হয় না । সময় পাওয়া যায় না । আবার লিখতে বসে কি নিয়ে লিখবো সেটাও খুঁজে পাই না ।
দিন দিন এতো ব্যস্ততা বেড়েছে ! অদ্ভুত এক মায়াময় ঘোরে যাচ্ছে জীবন । পার হচ্ছে সময় ।
আমি দিন দিন বুড়ো হচ্ছি !
আচ্ছা যাইহোক , এখন রাত ৯টা ৩৯ বাজে । লিখতে বসলাম চারকোণা স্ক্রিনে । এখন আপাতত এটাই আমার আবেগের ঘনবসতি ।
আজকে অদ্ভুত এক ভালবাসায় সিক্ত হয়েছি এবং সেই সাথে হয়েছি অভিভূত ও !
মূল কাহিনী তে যাওয়ার আগে কিছু কথা বলে নেয়া যাক ।
প্রায় এক বছর আগে বিড়াল পালার প্রবল ইচ্ছে জন্ম নিয়েছিলো মনে সিড়িঘরের পরে থাকা এক ছোট্ট বিড়াল ছানার মিউ মিউ শব্দ শুনে ! তখন তাকে ঘরেও নিয়ে এসেছিলাম । তবে তা পালার মত সাহস আর করতে পারি নি , যেখানে নিজেই থাকি পরের বাসায় ! বাপ মায়ের হোটেল এ খাই ,নিজের কিছু নাই । সেখানে বিড়ালের প্রতি ভালোবাসার স্থান নেই । পরে আর তা ঘরে রাখতে পারি নি । ছেড়ে দিয়ে এসেছি । আর সে কথা ভুলেই গিয়েছি ।
আজকে হঠাত ই আমার নতুন একটা বিড়ালের সাথে পরিচয় হয় সিড়িতে উঠার সময় । আমার হাতে ছিলো বাজারের ব্যাগ । আমি যখন উপরে উঠছি তখন তাকে দেখি কেমন আমার দিকে মায়া মায়া ভাবে তাকিয়ে আছে , মিউ মিউ করছে । জানি না সেই তাকানো তে কি ছিলো , তবে কেমন যেন একটা আকুল মমতা ছিল । আমার খুব ভালো লেগে যায় । আর তার রঙ টাও খুব সুন্দর সাদা আর হালকা খয়েরি । একটা ছবি তুলতে পারলে বেশ হতো । তাহলে এখানে আপলোড করে দিতাম । দেখি কালকে যদি তাকে পাই তাহলে ছবি তুলবো একটা । আচ্ছা এখন যেটা বলছিলাম শুনো , পরে আমি কি যেনো ভেবে তাকে ছুতে গেলাম । একহাতে বাজারের ব্যাগ অন্য হাত তার দিকে এগিয়ে দিলাম । সে কিন্তু ভয় পেয়ে পালিয়ে গেলো না ! মাথা নুইয়ে দিলো ।
আমি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম । সে যে কি এক অনুভূতি বলার মতো না ! দেখলাম সে আস্তে আস্তে আমার কাছে মিশতে চাইছে । আমি তখন বাজারের ব্যাগ হাত থেকে রেখে অনেক ক্ষণ তাকে আদর করলাম । পরে যখন বাজারের ব্যাগ হাতে উপরে উঠে এলাম । বাহ ! দেখি সেও আমার সাথে সাথে উপরে আসছে ! আমি তখন আর ভেতরে গেলাম না । ব্যাগ রেখে তাকে নিয়ে ৬ তলায় চলে এলাম । সে সুন্দর আমার সাথে সাথে উপরে আসলো । এর মাঝে আমি তাকে অনেক বার মাথায় , গলার নিচে হাত বুলিয়ে আদর করেছি । সে সুন্দর চোখ বুজে ফেলে আমার আদর পেয়ে ! বিষয় টা যে আমার কি ভালো লাগলো সেটা বলে বুঝাতে পারবো না !
আহা কতই না ভালোবাসার পাগল !
অথচ আমরা অনেকেই বিড়াল দেখলে , খাবারে মুখ দিলে লাঠি নিয়ে তাড়া করি !
তাকে একটু আদর করার পরে দেখি সে আমার পিছুই ছাড়ে না ।
অহ আরেকটা কথা বলাই হয় নি । এখন রোজার মাস । তো আমি ভাবলাম দেখি কোনো খাবার আছে কিনা । খুব ইচ্ছে করছিলো তাকে খাওয়াতে । পরে বাসায় এসে দেখি আমার এই বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা আবার ভাইরাল হয়ে গেছে । কেউ ই এটাকে ভালো ভাবে নিলো না ।
সবাই বললো নিজের পড়াশোনা নিয়ে ভাবতে , নিজের ই যেখানে মাথা গোজার ঠাই নেই সেখানে বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা টা একদম ই বিলাসিতা । মাথা গোজার ঠাই নেই , ব্যাপার টা ঠিক না , ঠাই আছে । তবে আজকে কেন যেন নিজেকে খুব অসহায় লাগলো ! একটা জিনিশ বুঝলাম । আসলে নিজের খেয়াল খুশি মত কিছু করতে গেলে নিজের অর্থের জোর থাকতে হয় , নিজের মাথা গোজার ঠাই লাগে । মানুষের ঘাড়ে বসে বসে খাবার গিলবে আবার বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা দেখাবে ?সেটা হওয়া চলবে না !
আমি মন খারাপ করে বিড়াল টাকে বাইরে রেখেই বাসায় চলে আসি । তাকে আর খাওয়ানো হলোনা ।
এখন সন্ধ্যার পর ইফতারি করার পরে কয়েল আনতে আমাকে নিচে দোকানে পাঠানো হলো । আমি দরজা খুলে দেখি সেই বিড়াল টা সুন্দর শুয়ে আছে । আমাকে দেখেই কেমন যেন করে উঠল ! সে যে ভালোবাসা পেয়েছে সেটা ছেড়ে যেতে চায় না । আমার খুব ই খারাপ লাগলো । আমি আবার তাকে হাত বুলিয়ে আদর করে দিলাম । আমি নিচে নামলাম , সেও আমার সাথে সাথে নিচে নামলো । আমি যখন দোকানে যাবো তখন সে গেট এর ভেতর ই থেকে গেল । আমি দোকান থেকে এসেও দেখি সেখানেই সে বসে আছে । আমি আবার আদর করে দিলাম। আবারো সে লেজ নাড়িয়ে কেমন যেন করলো । কি বুঝালো কে জানে ! আমার সাথে সাথে আবারো উপরে উঠে আসলো ।
ভালোবাসা খুব অদ্ভুত একটা জিনিশ । শুধু দুপুরে মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দেয়ার জন্য বিড়াল টা এখনো আমার পিছু ছাড়ে নি । আমি অবাক হই , খুব অবাক হই ।
অথচ মানুষে মানুষে ভালোবাসা থাকার পরেও দেখি খুনাখুনি হয়ে যায় ।
একটা জিনিশ বুঝতে পারলাম , আপনি কোনো প্রানী কে ১০% ভালোবাসা দিলে সে ১০০% ফেরত দিবে । আমার কাছে আজকে তেমন টাই মনে হলো ।
খুব ঠান্ডা মাথায় একটা সিদ্ধান্ত নিলাম আজকে । পরম করুণাময় , আমার মালিক যদি কোনো দিন আমাকে অর্থ বিত্ত দান করেন , আমি পশু পাখি পালন করবো । ঘরে রাখবো । তাদের সাথে সময় কাটাবো । আজকাল মানুষ এর চাইতে পশুপাখি দের ভালোবাসা রিটার্ন করার ক্ষমতা টা অনেক বেশি দেখছি । আর এই ভালোবাসা টাই আমার দরকার ।
- কবি
বহুদিন পর লিখতে বসলাম ।
লিখতে বসি বসি করে বসাও হয় না । সময় পাওয়া যায় না । আবার লিখতে বসে কি নিয়ে লিখবো সেটাও খুঁজে পাই না ।
দিন দিন এতো ব্যস্ততা বেড়েছে ! অদ্ভুত এক মায়াময় ঘোরে যাচ্ছে জীবন । পার হচ্ছে সময় ।
আমি দিন দিন বুড়ো হচ্ছি !
আচ্ছা যাইহোক , এখন রাত ৯টা ৩৯ বাজে । লিখতে বসলাম চারকোণা স্ক্রিনে । এখন আপাতত এটাই আমার আবেগের ঘনবসতি ।
আজকে অদ্ভুত এক ভালবাসায় সিক্ত হয়েছি এবং সেই সাথে হয়েছি অভিভূত ও !
মূল কাহিনী তে যাওয়ার আগে কিছু কথা বলে নেয়া যাক ।
প্রায় এক বছর আগে বিড়াল পালার প্রবল ইচ্ছে জন্ম নিয়েছিলো মনে সিড়িঘরের পরে থাকা এক ছোট্ট বিড়াল ছানার মিউ মিউ শব্দ শুনে ! তখন তাকে ঘরেও নিয়ে এসেছিলাম । তবে তা পালার মত সাহস আর করতে পারি নি , যেখানে নিজেই থাকি পরের বাসায় ! বাপ মায়ের হোটেল এ খাই ,নিজের কিছু নাই । সেখানে বিড়ালের প্রতি ভালোবাসার স্থান নেই । পরে আর তা ঘরে রাখতে পারি নি । ছেড়ে দিয়ে এসেছি । আর সে কথা ভুলেই গিয়েছি ।
আজকে হঠাত ই আমার নতুন একটা বিড়ালের সাথে পরিচয় হয় সিড়িতে উঠার সময় । আমার হাতে ছিলো বাজারের ব্যাগ । আমি যখন উপরে উঠছি তখন তাকে দেখি কেমন আমার দিকে মায়া মায়া ভাবে তাকিয়ে আছে , মিউ মিউ করছে । জানি না সেই তাকানো তে কি ছিলো , তবে কেমন যেন একটা আকুল মমতা ছিল । আমার খুব ভালো লেগে যায় । আর তার রঙ টাও খুব সুন্দর সাদা আর হালকা খয়েরি । একটা ছবি তুলতে পারলে বেশ হতো । তাহলে এখানে আপলোড করে দিতাম । দেখি কালকে যদি তাকে পাই তাহলে ছবি তুলবো একটা । আচ্ছা এখন যেটা বলছিলাম শুনো , পরে আমি কি যেনো ভেবে তাকে ছুতে গেলাম । একহাতে বাজারের ব্যাগ অন্য হাত তার দিকে এগিয়ে দিলাম । সে কিন্তু ভয় পেয়ে পালিয়ে গেলো না ! মাথা নুইয়ে দিলো ।
আমি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম । সে যে কি এক অনুভূতি বলার মতো না ! দেখলাম সে আস্তে আস্তে আমার কাছে মিশতে চাইছে । আমি তখন বাজারের ব্যাগ হাত থেকে রেখে অনেক ক্ষণ তাকে আদর করলাম । পরে যখন বাজারের ব্যাগ হাতে উপরে উঠে এলাম । বাহ ! দেখি সেও আমার সাথে সাথে উপরে আসছে ! আমি তখন আর ভেতরে গেলাম না । ব্যাগ রেখে তাকে নিয়ে ৬ তলায় চলে এলাম । সে সুন্দর আমার সাথে সাথে উপরে আসলো । এর মাঝে আমি তাকে অনেক বার মাথায় , গলার নিচে হাত বুলিয়ে আদর করেছি । সে সুন্দর চোখ বুজে ফেলে আমার আদর পেয়ে ! বিষয় টা যে আমার কি ভালো লাগলো সেটা বলে বুঝাতে পারবো না !
আহা কতই না ভালোবাসার পাগল !
অথচ আমরা অনেকেই বিড়াল দেখলে , খাবারে মুখ দিলে লাঠি নিয়ে তাড়া করি !
তাকে একটু আদর করার পরে দেখি সে আমার পিছুই ছাড়ে না ।
অহ আরেকটা কথা বলাই হয় নি । এখন রোজার মাস । তো আমি ভাবলাম দেখি কোনো খাবার আছে কিনা । খুব ইচ্ছে করছিলো তাকে খাওয়াতে । পরে বাসায় এসে দেখি আমার এই বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা আবার ভাইরাল হয়ে গেছে । কেউ ই এটাকে ভালো ভাবে নিলো না ।
সবাই বললো নিজের পড়াশোনা নিয়ে ভাবতে , নিজের ই যেখানে মাথা গোজার ঠাই নেই সেখানে বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা টা একদম ই বিলাসিতা । মাথা গোজার ঠাই নেই , ব্যাপার টা ঠিক না , ঠাই আছে । তবে আজকে কেন যেন নিজেকে খুব অসহায় লাগলো ! একটা জিনিশ বুঝলাম । আসলে নিজের খেয়াল খুশি মত কিছু করতে গেলে নিজের অর্থের জোর থাকতে হয় , নিজের মাথা গোজার ঠাই লাগে । মানুষের ঘাড়ে বসে বসে খাবার গিলবে আবার বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা দেখাবে ?সেটা হওয়া চলবে না !
আমি মন খারাপ করে বিড়াল টাকে বাইরে রেখেই বাসায় চলে আসি । তাকে আর খাওয়ানো হলোনা ।
এখন সন্ধ্যার পর ইফতারি করার পরে কয়েল আনতে আমাকে নিচে দোকানে পাঠানো হলো । আমি দরজা খুলে দেখি সেই বিড়াল টা সুন্দর শুয়ে আছে । আমাকে দেখেই কেমন যেন করে উঠল ! সে যে ভালোবাসা পেয়েছে সেটা ছেড়ে যেতে চায় না । আমার খুব ই খারাপ লাগলো । আমি আবার তাকে হাত বুলিয়ে আদর করে দিলাম । আমি নিচে নামলাম , সেও আমার সাথে সাথে নিচে নামলো । আমি যখন দোকানে যাবো তখন সে গেট এর ভেতর ই থেকে গেল । আমি দোকান থেকে এসেও দেখি সেখানেই সে বসে আছে । আমি আবার আদর করে দিলাম। আবারো সে লেজ নাড়িয়ে কেমন যেন করলো । কি বুঝালো কে জানে ! আমার সাথে সাথে আবারো উপরে উঠে আসলো ।
ভালোবাসা খুব অদ্ভুত একটা জিনিশ । শুধু দুপুরে মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দেয়ার জন্য বিড়াল টা এখনো আমার পিছু ছাড়ে নি । আমি অবাক হই , খুব অবাক হই ।
অথচ মানুষে মানুষে ভালোবাসা থাকার পরেও দেখি খুনাখুনি হয়ে যায় ।
একটা জিনিশ বুঝতে পারলাম , আপনি কোনো প্রানী কে ১০% ভালোবাসা দিলে সে ১০০% ফেরত দিবে । আমার কাছে আজকে তেমন টাই মনে হলো ।
খুব ঠান্ডা মাথায় একটা সিদ্ধান্ত নিলাম আজকে । পরম করুণাময় , আমার মালিক যদি কোনো দিন আমাকে অর্থ বিত্ত দান করেন , আমি পশু পাখি পালন করবো । ঘরে রাখবো । তাদের সাথে সময় কাটাবো । আজকাল মানুষ এর চাইতে পশুপাখি দের ভালোবাসা রিটার্ন করার ক্ষমতা টা অনেক বেশি দেখছি । আর এই ভালোবাসা টাই আমার দরকার ।
- কবি