Skip to main content

মুক্তির সাধ



শীতের শুরুতেই আরফান ঠান্ডা বাধিয়ে ফেললো ।
গায়ে একটা পাতলা চাদর ছাড়া কিছুই নেই ।
থাকবেই বা কিভাবে গত ৪/৫ দিন হলো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে । বাসা থেকে এক কাপড়ে বের হয়ে গেছে ।

ধোয়াশা এই নগরী থেকে বহু দূরের পথে হাটা দিয়েছে সে । ক্লান্তি ভর করে নি এখনো অব্দি ।
কোনো এক বিকেলে অনিমা বলেছিলো মুক্তির সাধ বোঝার বয়স এখনো হয়ে উঠেনি আরফান এর । বিকেল টাও কি মুক্তি পেয়েছিলো তার কথার ঝংকার থেকে..?
অনিমার কথা গুলো এখনো কানে বাজে ওর ।
অদ্ভুত সুন্দর মধুর ঝংকার ।
কাচের চুড়ি ভাংচুর এর শব্দের মতোই ঝনঝনে । এমন ঝনঝনে গলায় সব কিছুই ভয়ংকর সুন্দর বলে মনে হয় ।


কোনো এক বাদলার মন খারাপ করা দুপুরে অনিমা তার পাশে ২ টাকা ভাংতি চাইতে এসেছিলো ।
আরফান দিতে পারি নি,, তবে নিজেকে ওর কাছে ভাংতি পয়সার মতোই মুঠোয় মুঠোয় দিয়েছে । যা অনিমা জমিয়েছে পরম মমতায় । সেখান থেকে ইচ্ছে মতোন নিজেকে নিয়ে একটু একটু করে খরচ করেছে তবে আরফান কিছুই জমাতে পারে নি নিজের মাঝে । ওর শূন্য পৃথিবীতে ধারালো ছোরা ছাড়া আর কিছুই থাকে না কোনো সময় । মানুষ ওকে ভাড়া করে নিয়ে যায় খুন করানোর জন্য । টাকা নিয়ে দেহ থেকে প্রাণ মুক্ত করে দেয় ।
কাজটাতে খুব প্রশান্তি কাজ করে আরফানের ।


সব সময় যে ভাড়ায় করে তা নাহ,, মাঝে মধ্যে কিছু মানুষের উপর তীব্র প্রেম অনুভব করলেও আরফান এমন করে । ও ভাবে এই মানুষ টাকে মুক্তি দেয়া দরকার, ওর প্রাণ টা দেহে আটকা পড়ে আছে,, আহ বেচারা কতই না কষ্টে আছে । মুক্তি দেয়া দরকার । ও তখন পরম যত্নে ওদের খুন করে ।
ধারালো ছোরা দিয়ে একের পর এক ঘা দিয়ে বুক ফুটো করে দেয় ।
ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে ।
আরফানের বড়ই ভালো লাগে। শান্তি অনুভব করে ।
আহা এই বুঝি মুক্তির সাধ ।


অনিমাও মুক্তির সাধ পেয়েছে । আরফান তীব্র প্রেম বোধ থেকে অনিমার জন্য মুক্তির ব্যাবস্থা করেছিলো । অনিমা মুক্তি চায় নি, সারাজীবন বন্দী থাকতে চেয়েছিলো আরফান এর কারাগারে।
আরফান বলেছে তুমি বিশাল ডানা ওয়ালা পাখির মতোন ।
তুমি ঘুরে বেড়াবে ,
আমার চারিপাশে থাকবে,
আমার শূন্যতায় ও তুমি থাকবে আবার পূর্ণতায় ও থাকবে,,
কিন্তু এখন তো পারো নাহ ।। তাই জন্য তোমার মুক্তি জরুরি ।
আমরা সবাই মুক্তি খুজি,,,
তবে আমি আমার ভালোবাসার মানুষ কে
মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করি যেন তারা সব সময় আমার শূন্যতায় জড়িয়ে থাকে আকাশে বাতাসে ।
অনিমা বলেছিল,,
বোঝো তুমি মুক্তির সাধ..?
আরফান কথা না বলে ছুরি চালিয়ে দিয়েছিল ওর বুকে পরম মমতায় ।

-কবি
২-১২-২০২২

Popular posts from this blog

আমার খুব ক্লান্ত লাগে

হঠাৎ করেই আমার এমন পরিবর্তন হল নাকি আস্তে আস্তে বুঝি নি । তবে সত্যি বলতে আমার এখন খুব ক্লান্ত লাগে ! নিজের কন্টেক্সট এর বাইরে তো দূরের কথা নিজের কন্টেক্সট এর ভেতরে কিছু থাকলেও তা নিয়ে ভাবতে খুব ক্লান্ত লাগে যদি না সেইটা খুব ই বেশি প্যারা দিয়ে থকে । আমি মাথা ঘামাই না , এক্সট্রা effort দেই না । আমার চারিপাশে এতো ক্রাউড ! এতো নয়েস ! এতো ডেস্ট্রাকশন !! এতো এতো মন খারাপ করার মতো ঘটনা প্রতিদিন ঘটে , কয়টার দিকে তাকাবো আমি ... ফেইসবুকে ঢুকলেই দেখি দেশের নানারকম ইস্যু , রাজনৈতিক সমস্যা । নানান অনিয়ম , কেউ না কেউ খুব করুণ ভাবে মরে গেছে ... কোথাও না কোথাও বিশাল কিছু দুর্নীতি হয়ে গেছে ... এইসব । আগে আমার ভালো থাকতে , একটা ভালো দিন কাটাতে অনেক কিছুর প্রয়োজন পড়তো । এখন আর সেটা পড়ে নাহ , আমি চাহিদা কমিয়ে এনেছি । একটা সময় আমি ভাবতাম , দেশের সব কিছু ঠিক ভাবে চললে ... আমার আসে পাশের প্রতি টা মানুষ আমার এক্সপেকটেশন অনুযায়ী বিহেভ করলে আমার দিন টা ভালো যাবে , আমি সুখী হবো ! অথচ তা আজ অব্দি ঘটে নি । কোন দিন ঘটবেও নাহ । এখন অব্দি পৃথিবীর কোন ম...

অতীত ভ্রমণ

সময় গুলো কেমন যেন শীতের ভোরের কুয়াশা যেন কখনো কখনো মিলিয়ে যায় খুব দ্রুত আবার কখনো বা হিম শীতলতায় কাপন ধরায়..! অতীত নিয়ে ভাবনা গুলো ফের অতীতেও তোমায় ঘোরায় তোমায় পোড়ায় তোমায় বাচায়..! এই যে তুমি হাত বাড়িয়ে ধরছো আমায় ধরছো সময় ধরছো কি তা পাচ্ছো যা তা..? যেই অতীতে শালিক ঘুমায় চড়ুই ঘুমায় কোকিল ডাকে খুব আবেগে বাধতে মায়ায়.. শব্দের পর শব্দ দিয়ে বাক্য গুলো কেমন যেন হঠাৎ করেই যায় মিলিয়ে যায় হারিয়ে । অতীত যেন জন্ম নিলো শব্দ নিয়ে যেতে পালিয়ে । -কবি -অতঃপর অতীত ভ্রমণ ০৪-০১-২০২৩ 🌿

বিকেল বেলার কৃষ্ণচূড়া

আকাশ জুড়ে মেঘ জমেছে আঁধার আঁধার লাগছে কেমন হুহু করে শূন্যতারা আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়ায় যেমন.. ঝুম ঝুম ঝুম বৃষ্টি হবে এপাশ ওপাশ ভিজিয়ে যাবে ভুল হয়েছে, ভুল করেছি হঠাৎ আবার মনে হবে..! তোমার জন্য কাঠফাটা রোদ বিকেল বেলার কৃষ্ণচূড়া আমার জন্য মেঘলা আকাশ ঘাসফুল আর কল্পনারা..! -কবি ২৯-০৯-২০২২